নারী নির্যাতনমীর মারুফ তাসিন। কোনো ব্যাক্তি বা গোষ্ঠীর উপর যখন অন্য ব্যাক্তি বা গোষ্ঠী হুমকি বা বল প্রয়োগ করে থাকে তাকে নির্যাতন বলে। নারী নির্যাতন বলতে বোঝায়-  নারীর যেকোনো অধিকার খর্ব বা হরণ করা এবং কোনো নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যেকোনো বিষয় চাপিয়ে দেয়া বা কোনো ব্যাক্তির ইচ্ছানুসারে কাজ করতে বাধ্য করা নারী নির্যাতনের অন্তর্হিত। সার্বজনীন নারী অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘনমূলক অপরাধ নারী নির্যাতন।

ধারণাগতভাবে এটি আবার নারীর প্রতি সহিংসতা নিপীড়ন এবং নারীর সাথে অপব্যবহার বুঝায়। নারী নির্যাতন বিভিন্ন ধরণের ও প্রকৃতির হয়ে থাকে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীদেরকে আঘাত করা, যৌতুকের জন্য মানসিক চাপ, মানসিক নিপীড়ন, যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ, বাল্যবিবাহ বিদেশে পাচার বিশেস লক্ষণীয়। এমনকি ধর্ষণ করতে গিয়ে জখম বা খুন নিত্যনৈমিত্ত ব্যাপারে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি আমরা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নারী নির্যাতনের খবর পেয়ে থাকি। নারীরা যেন সহিংসতার স্বীকার না হন তা নিশ্চিত করার জন্য ধর্মসমূহে বিভিন্ন বিধান বা ব্যবস্থা জারি আছে। অথচ ধর্মের দোহাই দিয়ে নারীরা বেশি নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হন।

এর মূলে রয়েছে পুরুষের নারীকে বশীভূত রাখার অসুস্থ’ মানসিকতা এবং ধর্মের অপব্যবহার ও অপব্যাখা। খুন, গুম, অপহরণ, উক্ত্যত্তকরণ, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন ধর্ষণ প্রভূতি নারীদের জীবনযাত্রা বিভীষিকা পূর্ণ করে তুলেছে। প্রায় সকল ধর্মে নারীদের বিশেষ মর্জাদা দেয়া হয়েছে। ধর্মীয়ভাবে তাদের প্রতি বৈষম্য ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ নেই।

নারীদের প্রতি নির্যাতন ও সহিংসতা দিনে দিনে বেড়ে চলছে। সম্প্রতি আমরা দেখেছি কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় তনু হত্যা বিচার আজ পর্যন্ত হয় নাই। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ফেনীর সোনাগাজী মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনার মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকসহ জড়িতদের ধরে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তারপরও নারী নির্যাতন বেড়ে চলছে। দু:খজনক হলেও সত্য প্রতিবছর নারী সহিংসতার শিকার হয়ে বহু নারী মৃত্যুবরণ করছেন । কারণ তারা সংহিসতার কথা কারো কাছে বলতে পারে না। তাদেরকে বলতে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। নির্যাতিত হওয়ার পরও থাকতে হয় নানামুখী চাপে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুারোর (বিবিএস) জাতীয় পর্যায়ে ১২হাজার ৫৩০ জন নারী নিয়ে একটি জরিপ  চালিয়ে নারী নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেছে। তাতে দেখা গেছে স্বামীর মাধ্যমে শারীরিক নির্যাতনের শিকার ৬৫ শতাংশ নারী, ৩৬ শতাংশ যৌন নির্যাতন, ৮২ শতাংশ মানসিক এবং ৫৩ শতাংশ নারী স্বামীর মাধ্যমে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

নারী নির্যাতন ও সহিংসতা রোধে প্রচলিত আইন দ্বারা আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। বিশ্বে নারী অধিকার আদায়ে অনেক সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। যে নারীরা মুখ খুলে কথা বলতে ভয় পায় তাদেরকে সাহস দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধের জন্য আইন ছাড়াও আমাদের প্রয়োজন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি।

পরিশেষে বলতে চাই, নারীর নির্যাতন ও সহিংসতা রোধে নারীদের সচেতন হতে হবে। নারীদের নিজ অধিকার আদায়ের জন্য নিজেদের কথা বলতে হবে। নারী নির্যাতনকারী যেই হোক না কেনো তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নারীদের সচেতন হতে হবে প্রকৃত অধিকার প্রসঙ্গে। নারীদেরকে যখনই মানুষ হিসাবে দেখা হবে তখনই নারী নির্যাতন ও নারীর প্রতি সহিংসতা কমে আসবে ।

লেখক: শিক্ষার্থী, জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্ট্যাডিজ, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউর্নিভাসিটি।