দুর্যোগ

সংগ্রহঃ কয়রা, সাতক্ষীরা, বাংলাদেশ

আমাদের দেশের জন্য বর্তমান সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে দুর্যোগ মোকাবেলা। যা বর্তমান  বিশ্বের জন্য চ্যালেঞ্জ বটে। আমাদের দেশের ভৌগলিক অবস্থার জন্য প্রতিবছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা দেয়। যথাযথ ব্যবস্থাপনার জন্য প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি, হতাহতের ঘটনা ঘটে। কিন্ত এ সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান এবং গবেষণাই পারে এ দুর্যোগসমূহ মোকাবেলা করতে।

আসুন দেখে নেয়া যাক বাংলাদেশের কোন অঞ্চল কোন ধরণের দুর্যোগপ্রবণ?

অঞ্চলসমূহ

১. উত্তরাঞ্চলঃ রংপুর এবং রাজশাহী বিভাগ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এ অঞ্চল নদীবিধৌত হওয়ায় বন্যা, নদীভাঙ্গন প্রতিবছর প্রচণ্ড ক্ষতিসাধন করে। শুষ্ক মৌসুমে ক্ষরা প্রবল আকার ধারণ করে। ক্ষরার সময়ে ক্ষেতে আগুন লেগেও বহু ফসল  ধ্বংশ হয়। এছাড়া রাজশাহী বিভাগের বেশ কিছু জেলা যেমন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, বগুড়ার বেশ কিছু অঞ্চল আর্সেনিক দূষণে আক্রান্ত।

. পাহাড়ী অঞ্চলঃ পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগ পাহাড়ী এলাকাগুলো এ অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। ভূপ্রাকৃতিক গঠনবৈচিত্রের জন্য এ অঞ্চলগুলোতে ভূমিধ্বস ব্যাপক হয়। এছাড়াও ভূমিকম্প এখানকার মারাত্মক প্রাকৃতিক দূর্যোগ।

৩. মধ্যাঞ্চলঃ ঢাকা বিভাগের মেঘনা নদীর উপরের জেলাগুলো এবং ময়মনসিংহ বিভাগের জেলাসমূহ মূলঃত এই অঞ্চলের আওতাভুক্ত। অঞ্চলগুলো ভূমিকম্পনপ্রবণ। অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য অতিরিক্ত দালানকোঠা নির্মাণের জন্য জায়গাগুলো ভূমিকম্প ঝুকিতে রয়েছে। এছাড়া এ অঞ্চলের অধিকাংশ জেলায় ক্ষরাও লক্ষ করা যায় শুষ্ক মৌসুমে।

. দক্ষিণাঞ্চলঃ মেঘনা নদীর নিচের অঞ্চলগুলো খুলনা, বরিশাল এবং চট্টগ্রাম বিভাগের সমুদ্র তীরবর্তী সকল জেলাসমূহ এ অঞ্চলের আওতাভুক্ত। মূলত আর্সেনিক দূষিত জনপদ। সমুদ্র উপকূলবর্তী হওয়ায় এ অঞ্চলগুলোতে প্রতি বছর শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস আঘাত হানে। সমুদের লবণাক্ত পানির প্রভাবে কৃষি জমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ঘটে। এছাড়া এ অঞ্চলে আর্সেনিক দূষণ বেশী লক্ষ করা যায়।

সারসংক্ষেপ

উত্তরাঞ্চল – বন্যা, নদীভাঙ্গন, ক্ষরা, আর্সেনিক দূষণ

পাহাড়ী অঞ্চল – ভূমিধ্বস, ভূমিকম্প

মধ্যাঞ্চল – ভূমিকম্প, ক্ষরা

দক্ষিণাঞ্চল – আর্সেনিক দূষণ, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, লবণাক্ততা বৃদ্ধি

 

উপরের চিত্রই বলে দিচ্ছে কোন অঞ্চল কেমন দুর্যোগপ্রবণ । যারফলে প্রচুর ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এ দুর্যোগ মোকাবেলা করার এখনি সময়। এ সম্পর্কে সচেতনতা, প্রযুক্তিগত প্রয়োগ এবং শিক্ষাই পারে এর  ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে দিতে।

Md. Hasanuzzaman

Studies at Disaster Management

Begum Rokeya University, Rangpur.